বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন
নেছার আহমদ:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের মাধ্যমে গুজবের জের ধরে কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ৯ বছর পূর্ণ হয়ে ১০ বছরে পদার্পন করলো আজ। এক সময়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শহর খ্যাত রামুতে ২০১২ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে ১২টি বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে হামলা চালায় দুস্কৃতিকারীরা। তবে এখন সম্প্রীতির বন্ধনে সকল ধর্মের মানুষ। সাক্ষীদের সাক্ষদানে অনিহায় ঘটনার বিচার কার্য থমকে আছে। ঘটনার বিচার কার্য শেষ করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনান পাশাপাশি সকল সম্প্রদায়ের মানুষের সম্প্রীতি অটুট থাকুক এমনটাই দাবী বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের।
২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর উত্তম বড়–য়া নামের এক বৌদ্ধ যুবকের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পবিত্র কোরআন অবমাননার একটি ছবি ট্যাগকে কেন্দ্র করে রামুতে সংঘটিত হয় ভয়াবহ ঘটনা। রাতের অন্ধকারে রামুতে ১২টি বৌদ্ধ বিহার, ৩০টি বসতঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে দুস্কৃতিকারীরা। ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে একইভাবে উখিয়া ও টেকনাফে আরো ৭টি বৌদ্ধ বিহার ও ১১টি বসতঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঘটনার পর পরই সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ বিহার ও ঘরবাড়ি নতুন কারুকাজে পুণনির্মাণ করে দেয় সরকার। সরকারি পৃষ্টপোষকতায় নান্দনিকভাবে নির্মিত এসব বৌদ্ধ বিহার ২০১৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এঘটনায় ১৯ টি মামলা দায়ের হলেও একটি মামলা আপোষে নিস্পত্তি হয়। এজাহারভুক্ত ৩৭৮ জনসহ অজ্ঞাত আরো ১৪/১৫শ জনকে অভিযুক্ত করে ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৮টি মামলায় ১০২০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন বলছেন, ঘটনার ১০ বছরে এসে এসব ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির আওতায় এনে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের সম্প্রীতি অটুট থাকুক।
রামু কেন্দ্রিয় সীমা বিহারের আবাসিক ভিক্ষু ও কক্সবাজার বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু জানান, ঘটনার ৯বছর পার হয়ে গেছে। দীর্ঘসুত্রিতার কারনে মামলার প্রথমদিকে যে গতি ছিল তা ভাটা পড়েছে। ভুক্তভুগিদের মধ্যে অনেকে স্বাক্ষ দেয়ার ক্ষেত্রে আর এগুতে চায়না। সবকিছু যেন ঠিক হয়ে গেছে এমন ভাব সবার। যার দরুন মামলার কার্যক্রম থমকে আছে। রাস্ট্রপক্ষ ও ভুক্তভুগি স্বাক্ষীদের মধ্যে সমন্বয় করে মামলার সুরাহা হবে বলে আশা করেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের এ ধর্মীয় গুরু।
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি ফরিদুল আলম জানান,ওই ঘটনায় মামলা হয়েছিল ১৯টি। এরমধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে ১৮টি মামলা করেন। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে অপর একটি মামলা করলেও পরবর্তীতে বিবাদীদের সঙ্গে আপোষনামায় নিষ্পত্তি হয়। বিচারাধীন ১৮টি মামলায় আদালতে স্বাক্ষী না আসায় বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘসূত্রিতা। তবে সাক্ষীদের উপস্থাপনের মধ্যদিয়ে সব মামলা নিস্পত্তি করে সংশ্লিষ্ট অপরাধিদের বিচার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান রাস্ট্র পক্ষের এ কৌশলী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকসহ তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেন আর কোন সহিংসতা না হয় তার জন্য সজাগ থাকার কথা বলছেন সকলেই।
ভয়েস/আআ